আতঙ্কিত না হওয়ার মানসিকতাই জিতিয়েছে: শান্ত
স্পোর্টস ডেস্ক : সিলেট টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের সকালে পাকিস্তানের দুই ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের অনবদ্য প্রতিরোধে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। চার ছক্কার ফুলঝুরিতে তখন মনে মনে কিছুটা শঙ্কা জেগেছিল খোদ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তরও। তবে সব শঙ্কা ও স্নায়ুচাপ তুড়িৎ গতিতে উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৮ রানের জয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার অনন্য স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতরের সেই চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোর কথা অকপটে স্বীকার করেছেন টাইগার অধিনায়ক।
পঞ্চম দিনের সকালের সেই কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি নিয়ে শান্ত বলেন, “এই শেষ এক ঘণ্টার আবেগটা ভাষায় ব্যাখ্যা করা সত্যিই মুশকিল। কারণ সত্যি বলতে ওরা ওই সময় বেশ ভালো ব্যাটিং করছিল, যার কারণে আমরা একটু চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। তবে আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে আস্তে আস্তে এখন আমাদের দলের ওই মাঠের আবেগটাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হওয়ার জিনিসটা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে আমি বলব।”
অধিনায়ক হিসেবে দলের ক্রিকেটারদের মানসিকতার এই ইতিবাচক পরিবর্তনে ভীষণ খুশি শান্ত। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি ও বড় দলগুলোর মতো মাঠে আরও বেশি শান্ত থাকার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন তিনি। শান্ত আরও যোগ করেন, “এই জায়গাটাতে আমাদের আরও একটু উন্নতির প্রয়োজন আছে। বড় দলগুলো এই ধরনের পরিস্থিতিতে হয়তো আরও অনেক বেশি শান্ত থাকে। কিন্তু আমাদের এই জায়গাটাতে আগের চেয়ে স্পষ্ট উন্নতি হয়েছে, তাই অধিনায়ক হিসেবে আমি দারুণ খুশি। আর সামগ্রিকভাবে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ব্যাক-টু-ব্যাক দুটি টেস্ট ম্যাচ জিততে পেরেছি, এটা দেশের ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই বড় গর্বের ব্যাপার।”
প্রথম টেস্টের রাজকীয় জয়ের পর সিলেটেও এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দলের সবার ওপর সঁপে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্ত বলেন, “আমরা এই সিরিজে পুরোপুরি একটা দল হিসেবে খেলতে পেরেছি। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় যেভাবে মাঠ ও মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করেছে, এমনকি স্কোয়াডে থাকা যে সমস্ত ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফ এবং দলের অন্যান্য সহায়তাকারীরা—সবার অবদান ছিল শতভাগ। সবাই মনেপ্রাণে চাচ্ছিল আমরা যেন ঘরের মাঠে আরেকবার এরকম একটা ভালো ফল উপহার দিতে পারি।”
উল্লেখ্য, সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১২৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। জবাবে পঞ্চম দিনের সকালে সাজিদ খান (২৮) ও সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় থাকা উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৯৪) দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দেন তাইজুল ও শরীফুল। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন জাদুকর তাইজুল ইসলামের বিধ্বংসী ৬ উইকেটের ওপর ভর করে পাকিস্তান ৩৫৮ রানে অলআউট হলে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ।
জান্নাত সকালাবেলা