পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার
হত শিশু মোছা. কামরুন্নাহার কলি

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামের এক শিশুর খণ্ডবিখণ্ড বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় স্থানীয়রা সন্দেহভাজন একটি বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত কামরুন্নাহার কলি ওই গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সাথে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। কেনাকাটা শেষে বাবার সাথে বাড়ি ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে ঘরের পাশেই যায় সে। এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে তার পায়ের স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও সহপাঠীরা নানা মাধ্যমে কলির সন্ধানের জন্য প্রচার চালিয়ে আসছিল। এমনকি গতকাল মঙ্গলবারও পাবনা শহরে নিখোঁজ কলিকে উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ঠিক পরদিনই বাড়ির নিকটবর্তী ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের মর্মান্তিক খবর আসে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল।

নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজের পরপরই তারা পুলিশ প্রশাসনকে সম্ভাব্য কিছু সূত্র ও তথ্য দিয়েছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে অনুযায়ী দ্রুত ও যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করেনি। পরিবারের দাবি, এলাকার কারও সাথে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না; স্থানীয় কোনো চক্রই এই নির্মম ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, “বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই আমার ফুটফুটে মেয়েটা নিখোঁজ ছিল। আমরা বহু জায়গায় খুঁজেছি। কিন্তু কারা এমন নিষ্ঠুরভাবে আমার মেয়েকে কেটে টুকরো করল, কারা আমাদের এই সর্বনাশ করল—আমি তাদের চেহারা দেখতে চাই। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন