অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে ইয়ামালকে নিয়ে সুখবর দিলেন স্পেন কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ বা শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধরনের স্বস্তির সুবাতাস বইছে স্প্যানিশ শিবিরে। সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এখন পুরো ৯০ মিনিট মাঠ কাঁপানোর মতো শতভাগ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন স্পেনের প্রধান আক্রমণভাগ ও বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল। দলের এই অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী তারকাকে ঘিরে এই স্বস্তিদায়ক সুখবরটি দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইয়ামালের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ভক্ত ও ম্যানেজমেন্টের মাঝে তীব্র শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত চোটের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মূল স্কোয়াডে জায়গা পেলেও গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচেই তাকে পুরো সময় বা ফুল ৯০ মিনিট মাঠে রাখার ঝুঁকি নেননি কোচ। তবে আগামী শুক্রবার (৩ জুলাই) লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার সেমি-নকআউট ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই মাঠে থাকবেন এবং পুরো সময় খেলতে পারবেন।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমরা ইয়ামালের চোট ও রিকভারি নিয়ে শুরু থেকেই খুব বেশি সতর্ক ও যত্নশীল ছিলাম। মেডিকেল টিমের পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ আমরা একদম নিখুঁত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে লামিন শারীরিকভাবে দারুণ অবস্থায় আছে। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, সে মানসিকভাবে মাঠে নামার জন্য এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।”
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ক্লাব ফুটবলে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর চোট পান ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবল সেনসেশন। এরপর থেকেই তার খেলার সময়ের ওপর এক ধরনের বিধি-নিষেধ বা লিমিট জারি করা হয়েছিল। মেগা টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিনি মাঠে মোট ১৪১ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে অল্প সময় খেললেও, সৌদি আরবের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি তুলে নেন তিনি। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পর, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই ‘লা রোজা’দের। তবে এবার গ্রুপ পর্বে কোনো গোল না হজম করে, টানা তিনটি ক্লিন শিট রেখে দুর্দান্ত ছন্দে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে স্পেন। অস্ট্রিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইয়ামালের মতো একজন ম্যাচ-উইনারের পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠা স্পেনের নকআউট জুজু কাটানোর মিশনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
|