বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক, আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ণ
বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক, আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:: দেশে ছেঁড়া-ফাটা নোটের ব্যবহার, জাল টাকার দাপট এবং খুচরা টাকার চিরন্তন সংকট কমিয়ে ক্যাশলেস (নগদবিহীন) লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সর্বস্তরে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই একীভূত ও সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় ধাপে ধাপে দেশের সকল ট্রেড লাইসেন্স ফি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, গণপরিবহনের ভাড়া ও টোলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার মূল্যও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট বা লেনদেন কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে বাংলা কিউআর-কে একটি একীভূত ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ফলে বড় বড় শপিং মল, সুপারশপ, ব্র্যান্ডের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান কিংবা ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবাই একই ধরনের ইউনিভার্সাল কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলা কিউআরের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো এর অত্যন্ত কম খরচ এবং সহজ ব্যবহার পদ্ধতি। প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট বা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ করার জন্য যেখানে ব্যাংক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘পয়েন্ট অব সেল’ (পিওএস) মেশিন কিনতে বা ভাড়া নিতে হয়, সেখানে বাংলা কিউআরের জন্য দোকানে একটি সাধারণ কাগজের কিউআর স্টিকার রাখাই যথেষ্ট। এর ফলে পুঁজিহীন ক্ষুদ্র বা ভাসমান ব্যবসায়ীরাও সহজেই কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই ডিজিটাল ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত হতে পারছেন।

যেভাবে আবেদন করবেন: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো ক্ষুদ্র, মাঝারি বা বড় স্তরের ব্যবসায়ী খুব সহজেই তার ব্যবসায়িক লেনদেনের ব্যাংকের মাধ্যমে এই বাংলা কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারবেন।

১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: আবেদন করার জন্য প্রথম শর্ত হলো—ব্যবসায়ীর যেকোনো অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকে একটি সেভিংস (সঞ্চয়ী), কারেন্ট (চলতি) অথবা এসএনডি (SND) অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ২. আবেদন ফরম: ব্যক্তির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং একটি বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (স্থায়ী বা অস্থায়ী) থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত ‘বাংলা কিউআর আবেদন ফরম’ পূরণ করতে হবে। ৩. জমা প্রদান: ফরমটি পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তা বা শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্র পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সেটি তাদের প্রধান কার্যালয়ের মূল কার্ড বিভাগে (Card Division) পাঠাবে। সাধারণত আবেদনের পর মাত্র ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যেই কিউআর কোডটি প্রস্তুত হয়ে যায় এবং আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকের নিজস্ব সিএমএস সফটওয়্যারে কিউআর কোডটি লাইভ বা আপলোড হওয়ার পর, ব্যবসায়ী ব্যাংক শাখা থেকে সেটি প্রিন্ট বা স্টিকার আকারে সংগ্রহ করে নিজের দোকানে প্রদর্শন করতে পারবেন।

 গ্রাহকদের মাসিক লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্টদের প্রধানত দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে এবং সেই অনুযায়ী নথিপত্র নির্ধারণ করেছে:

  • মাইক্রো মার্চেন্ট (মাসিক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনকারী): ছোট দোকানদার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সাথে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্পষ্ট ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে।

  • রেগুলার মার্চেন্ট (মাসিক ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেনকারী): বড় বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হালনাগাদ ই-টিন (e-TIN) সনদ এবং সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন