যে নিয়মে লাল কার্ড দেখতে হলো ব্রিল এমবোলোকে

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
যে নিয়মে লাল কার্ড দেখতে হলো ব্রিল এমবোলোকে

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ কোনো ফাউল বা আগ্রাসী আচরণের জন্য নয়, বরং ফিফার নতুন এক বিশেষ আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে ম্যাচ চলাকালীন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই সুইস তারকাকে। ফুটবলের ইতিহাসে এটি বেশ বিরল এক ঘটনা।

ফিফার নতুন প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, যদি মাঠে কোনো ফাউল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য রেফারি ভুলবশত কোনো খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) বা রিভিউয়ের মাধ্যমে দেখা যায় যে ফাউলটি আসলে প্রতিপক্ষের অন্য কোনো খেলোয়াড় করেছেন অথবা ঘটনার শিকার হওয়া খেলোয়াড় নিজেই অপরাধী; তবে রেফারি তাঁর আগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ঠিক এই নিয়মটিরই নিখুঁত প্রয়োগ ঘটে। ম্যাচের এক পর্যায়ে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে রেফারি হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। কিন্তু ভিএআর (VAR) রিভিউতে দেখা যায়, পারেদেস আসলে কোনো ফাউলই করেননি; বরং সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো পেনাল্টি বা ফ্রি-কিক আদায়ের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে পড়ে গিয়ে ডাইভ বা ‘সিমুলেশন’ করেছেন।

ফলে রেফারি ‘মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল’ ব্যবহার করে পারেদেসের হলুদ কার্ড মওকুফ করেন। অন্যদিকে, রেফারিকে প্রতারিত করার অপরাধে উল্টো এমবোলোকে ম্যাচটিতে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি দেখান, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে পরিণত হওয়ায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। অর্থাৎ পারেদেসকে যদি রেফারি প্রথমে ফাউলকারী হিসেবে চিহ্নিত না করতেন, তবে এমবোলোকে এই বিশেষ নিয়মে কার্ড দেখতে হতো না।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই নিয়মের প্রয়োগ আরও একবার দেখা গিয়েছিল গ্রুপ পর্বের যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচে। ওই ম্যাচে প্যারাগুয়ের তারকা মিগেল আলমিরনকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিম ফাউল করেছেন ভেবে প্যারাগুয়েকে ফ্রি-কিক দেওয়া হয় এবং টিম রিমকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রেফারি ভিএআর রিভিউ করে দেখেন যে টিম রিম ফাউল করেননি, বরং আলমিরন ডাইভ বা সিমুলেশন দিয়েছিলেন। ফলে টিম রিমের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে উল্টো আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছিল।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বক্সের ভেতর বা কাছাকাছি ফাউল আদায় করতে খেলোয়াড়দের ডাইভ দেওয়ার প্রবণতা রোধ করতেই ফিফা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে ডাইভ দেওয়া বা সিমুলেশনের ক্ষেত্রে রেফারিকে সব সময়ই হলুদ কার্ড দেখাতেই হবে— এমন কোনো বাধাধরা বা বাধ্যতামূলক নিয়ম ফুটবলে নেই, এটি সম্পূর্ণ রেফারির তাৎক্ষণিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। তবে এমবোলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের চড়া মূল্য দিতে হলো পুরো সুইজারল্যান্ড দলকে।

মন্তব্য করুন