ঘূর্ণিঝড় বাভির তাণ্ডব: ফিলিপাইনে নিহত ১৮, চীনে ২০ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ
ঘূর্ণিঝড় বাভির তাণ্ডব: ফিলিপাইনে নিহত ১৮, চীনে ২০ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও চীন সাগরে সৃষ্ট অতি শক্তিশালী ক্রান্তীয় টাইফুন ‘বাভি’ (Typhoon Bavi) এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাইওয়ান এবং জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর এই ঘূর্ণিঝড়টি এবার চীনের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে চীনের বন্যাকবলিত ও উপকূলীয় এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

রবিবার (১২ জুলাই) চীনে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত দেশটির মূল ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও এর প্রভাবে শুরু হয়েছে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা। তবে চীনে পৌঁছানোর আগে এই ঝড়ের প্রভাবে ফিলিপাইনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ঘূর্ণিঝড় বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারী বর্ষণ ও ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে দেশটিতে অন্তত ১৮ জন মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের সিংহভাগই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও (Mindanao) দ্বীপের বাসিন্দা। ফিলিপাইনজুড়ে এই দুর্যোগের কারণে প্রায় ১১ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সমুদ্রবন্দর এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’ (Xinhua) প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঝেজিয়াং (Zhejiang) প্রদেশে প্রথম আছড়ে পড়ে বাভি। ইউহুয়ান শহরে আঘাত হানার সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV) জানিয়েছে, ইউহুয়ানের পর ঝড়টি তীব্র বাতাস ও ভারী বর্ষণ নিয়ে ইউয়েকুয়িং শহরে আঘাত হানে, যেখানে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি গাছ উপড়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে ঝড়ের কেন্দ্রটি ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝুর (Hangzhou) কাছাকাছি পৌঁছায়। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, নদীর পানি উপচে পড়া এবং ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার কারণে আকস্মিক বন্যার লাল সতর্কতা জারি করেছেন। উল্লেখ্য, চীনে গত সপ্তাহ থেকেই আবহাওয়া চরম ভাবাপন্ন রূপ ধারণ করেছে। দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বিগত কয়েকদিনের বন্যায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস’ গত সপ্তাহে একটি আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর মহাসাগরগুলো ইতিহাসের উষ্ণতম ‘জুন’ মাস পার করেছে, যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, সমুদ্রের জলস্তর অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে উঠলে তা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুনগুলোকে সাধারণের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও হিংস্র করে তোলে। এর ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অভূতপূর্বভাবে বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেখা দেয় এই ধরণের প্রলয়ঙ্করী অতিবৃষ্টি ও মহাবিপর্যয়।

মন্তব্য করুন