আর্জেন্টিনার জয়ে নাদিয়া আহমেদের আবেগঘন বার্তা
বিনোদন ডেস্ক: চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব। কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর প্রিয় দল আলবিসেলেস্তেদের এই মাঠ কাঁপানো জয় গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করলেন বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি নাদিয়া আহমেদ ও এফএস নাঈম।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) ম্যাচ শেষে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে স্বামী নাঈমের সঙ্গে প্রিয় দলের জার্সি পরা বেশ কয়েকটি হাসিমুখের ছবি পোস্ট করেন নাদিয়া। ছবির ক্যাপশনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “ভামোস আর্জেন্টিনা (Vamos Argentina)! আমরা সেমিফাইনালের পথে। গর্জে ওঠো আর্জেন্টিনা।”
একই সাথে খেলাটি যে মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক ‘কানসান স্টেডিয়াম’ (Kansan Stadium)-কে ধন্যবাদ জানিয়ে নাদিয়া এক রোমাঞ্চকর তথ্য শেয়ার করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম যেখানে বিগত ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচটি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে জিতেছিল। আর আজ দীর্ঘ ২০ বছর পর এই মাঠেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করল মেসি-বাহিনী।
এর আগে ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর পোস্ট দিয়েছিলেন নাদিয়া আহমেদ। একজন কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে নিজের দীর্ঘ ও বন্ধুর পথচলার গল্প ফুটিয়ে তোলেন তিনি। নাদিয়া লেখেন, “আমরা যারা আর্জেন্টিনার ফ্যান, ২০২২ সালের ঐতিহাসিক ক্ষণের আগে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ জয় ছিল ১৯৮৬ সালে, ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে। তাই এই দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনার সমর্থক হতে হলে মানসিক মনোবলটা সত্যিই অনেক শক্ত হতে হয়।”
দলের হাজারো হৃদয়ভাঙা মুহূর্তেও পাশে থাকার গল্প শুনিয়ে এই তারকা অভিনেত্রী আরও লেখেন, “আমরা ২০০২-এর গ্রুপ পর্বের হতাশা দেখেছি, ২০০৬-এর কোয়ার্টারের আক্ষেপ দেখেছি, ২০১০-এর জার্মানির কাছে সেই বড় ব্যর্থতা দেখেছি, ২০১৪-এর ফাইনালে ট্রফির এত কাছে গিয়ে হৃদয়ভাঙা কান্না দেখেছি এবং ২০১৮-এর বিদায়ের কষ্টও সয়েছি। তারপরও একটা মুহূর্তের জন্য দল ছেড়ে চলে যাইনি। অনেকেই একটা সময় আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে আর্জেন্টিনাকে ‘আরজেতেনা’ বলত। কিন্তু বছরের পর বছর আমরা ধৈর্য ধরেছি, বিশ্বাস রেখেছি, ভালোবাসা ধরে রেখে একই দলের পাশে অবিচল থেকেছি। অবশেষে ২০২২ সালে আমাদের সেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সোনালী ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে বহুদিনের কান্না আনন্দের অশ্রুতে রূপ নিয়েছে।”
আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের নিঃস্বার্থ ও খাঁটি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে নাদিয়া ট্রলকারীদের কড়া জবাব দিয়ে বলেন, “আমরা কখনও এমন একটি দলকে সমর্থন করিনি, যাদের শুধু অন্ধ সাফল্য দেখেই সবাই হুজুগে সমর্থক হয়ে যায়। আমাদের তখন মাত্র দুটি বিশ্বকাপ ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল—একদিন নিজের চোখে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা হতে দেখব। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই আজ যারা এই বিশ্বকাপ বা গত বিশ্বকাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক আজেবাজে কথা বলছেন, তাদের শুধু একটা কথাই বলব—আর্জেন্টিনার প্রকৃত সমর্থকরা দল কয়টি ট্রফি জিতেছে, সেই গাণিতিক হিসাব দেখে এই দলকে ভালোবাসেনি। তারা ভালোবেসেছে দলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, এই আকাশী-সাদা জার্সি, গভীর আবেগ আর ফুটবলীয় পরিচয়কে। এরা ট্রফির লোভে নয়, খাঁটি ভালোবাসার জন্য পাশে থাকে।”
পোস্টের শেষ অংশে নাদিয়ার চমৎকার উপলব্ধি ফুটে ওঠে। তিনি জানান, ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে এখন কেবলই সাফল্যের গল্প। তাই কারো হিংসাত্মক কথাবার্তায় আর্জেন্টিনার কোটি ভক্তের আবেগকে বিন্দুমাত্র ছোট করা যাবে না। নাদিয়ার মতে, আর্জেন্টিনা কোনো সাধারণ ফুটবল দল নয়; এটি একটি আজীবনের অনুভূতির নাম। আর এই অনুভূতিকে ভেঙে দেওয়া এত সহজ নয়।
|