মাগুরায় মধুমতির বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত
এম এ রইচ (মহম্মদপুর, মাগুরা): বৈঠার টানে কাঁপল মধুমতির বুক, আর তীরে দেখা গেল মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে লোকজ ঐতিহ্যের শতবর্ষী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণিল এই নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। এ উপলক্ষে ঝামা বাজার ও মধুমতির দুই পাড় জুড়ে বসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ঝামা বাজার সংলগ্ন মধুমতির রূপালী জলে ক্ষিপ্রগতি আর সঙ্গীতের মূর্ছনায় শুরু হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত এই বাইচ। দিনটিকে কেন্দ্র করে বিগত দুই দিন ধরেই নদীর বিস্তৃত দুই কূল জুড়ে জমে ওঠে মেলা। গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদা থেকে শুরু করে গ্রাম্য কারুশিল্পের পশরা নিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে পুরো প্রান্তর রূপ নেয় এক লোকজ মিলনমেলায়, যার ফলে পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে দুপুরে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের শুভ উদ্বোধন করেন।
বাইচ শুরু হতেই সঙ্গীতের সুর আর মাঝিমাল্লাদের ছন্দময় দাঁড় নিক্ষেপে রূপালী জল ময়ূরপঙ্খির মতো ঝিলমিলিয়ে ওঠে। কাঁশার গমগমে শব্দ আর ‘হেঁইও হেঁইও’ হাঁকে মধুমতির শান্ত জলরাশি এক মুহূর্তে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। নদীর দুই তীরে জড়ো হওয়া হাজারও মানুষের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের পুরো জনপদ।
এদিন সকাল থেকেই মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নড়াইল, আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা থেকে নানা বয়সের মানুষ ঝামা ও চরঝামা এলাকায় ভিড় জমায়। বৈচিত্র্যময় এই আয়োজন দেখে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ মোহিত হন। মধুমতির তীরে সৃষ্ট প্রাণের স্পন্দন গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন করে টিকিয়ে রাখার বার্তা দিয়ে গেছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম এম রেজাউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খাঁন, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. শামীম আহমেদ ও অধ্যক্ষ মৈমূর আলী মৃধা।
প্রতিযোগিতার জমজমাট লড়াই শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে আনুষ্ঠানিক পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
এআইএল/সকালবেলা