ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম ও বিলকিস বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা সামিরা খাতুন (৬) নিখোঁজ হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা এখন চরম দিশেহারা। দীর্ঘ এই সময়েও শিশুটির কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় এলাকায় এক থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিকেলে আনুমানিক ৫টার দিকে বাগালী ইউনিয়নের ঘুগরাকাটি বাজারে নিজের চাচার চায়ের দোকানে যায় সামিরা। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি। নিরুপায় হয়ে নিখোঁজের পরদিন ২৭ আগস্ট কয়রা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১১৪৫) করেন সামিরার বাবা। নিখোঁজের নয় দিন পর স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও শিশুটির কোনো উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
নিখোঁজ সামিরার বাবা মো. শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, চার মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। থানা পুলিশকে বারবার জানালেও তারা কেবল 'চেষ্টা চলছে'—এমন আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বর্তমানে সামিরার বাবা-মা দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একমাত্র মেয়েকে ফিরে পেতে তারা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো, কয়রা উপজেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ চার মাসেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের অবহেলায় পরিবারটি এখন চরম হতাশাগ্রস্ত।
স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অলিগলিতে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখলেও সামিরার পরিবার এখন প্রশাসনের দিকে চেয়ে আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার নতুন দায়িত্বের আওতাভুক্ত। জিডিটি আগে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে ছিল, তার বদলিজনিত কারণে এটি নতুন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ