শ্রীপুরে শিশুপল্লীতে রঙ-তুলির আঁচড়ে বৈশাখ পালন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে শিশুপল্লীতে রঙ-তুলির আঁচড়ে বৈশাখ পালন

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: দেশজ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সৃজনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামে অবস্থিত মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘শিশুপল্লী প্লাস’-এ। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রটিতে বিরাজ করছে এক বর্ণিল উৎসবের আমেজ।

বাঙালির প্রাণের উৎসব উপলক্ষে কেন্দ্রটির মা ও শিশুরা মিলে তৈরি করেছে নানা বৈশাখী মোটিভ। ব্রিটিশ নাগরিক পেট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ানা কার প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে আশ্রিত মায়েরা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লোকজ পাখি, রঙিন ঘুড়ি, মাছ, প্যাঁচা ও ময়ূরসহ বিভিন্ন লোকজ প্রতীক। মায়েদের এই কাজে পূর্ণ উদ্যমে হাত লাগিয়েছে শিশুরাও। কেউ রঙের কাজ দেখছে, কেউবা তুলির আঁচড়ে নিজেদের মতো করে ফুটিয়ে তুলছে বৈশাখের রঙিন গল্প।

কেন্দ্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির প্রায় ৭০ জন শিশু এই কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী সিতা হাজদা জানান, কাজের ফাঁকে তিনি তাঁর সন্তান সুব্রত সরেনকেও এসব শিল্পকর্ম শেখাচ্ছেন। উচ্ছ্বসিত শিশু সুব্রত বলে, “এগুলো নিয়ে আমরা র‍্যালিতে যাব। আগামী বছর আমি নিজেই সব বানাতে পারব।” আরেক অংশগ্রহণকারী শাহানা বেগম বলেন, “সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বৈশাখী মোটিভ তৈরি করতে খুব ভালো লাগছে। বছরে এই একটি দিন আমরা অনেক আনন্দ করি।”

বৈশাখবরণ উপলক্ষে শিশুপল্লী প্লাস নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উৎসবের দিন সূর্যোদয়ের পর বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে দিনের শুরু হবে। এরপর পরিবেশন করা হবে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-রুই মাছের নাস্তা। সকাল থেকে চলবে শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দুপুরে থাকবে আশেপাশের মেলা ঘুরে দেখার সুযোগ।

পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর মিলন রব বলেন, “এখানকার প্রতিটি শিশু বাংলাদেশের একেকটি কোমল রূপ নিয়ে বেড়ে উঠছে। এ ধরনের আয়োজন তাদের দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়।”

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘শিশুপল্লী প্লাস’ বর্তমানে প্রায় ৬৫০ জন দুস্থ মা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর আবাসন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন