কয়রায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ
কয়রায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহাম্মাদ আবুল বাসার আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, মুহাম্মাদ আবুল বাসার স্থানীয় ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ২০২৩ সালে জাকারিয়া শিক্ষা নিকেতন থেকে সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) হিসেবে অবসরে যান। এসএমসির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রতিনিধি হতে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ম না মেনে গোপনে তাঁর পছন্দের এক প্রার্থীকে চূড়ান্ত করার চক্রান্ত করেন।

অভিযোগকারী আবুল বাসার বলেন, "অভিভাবকদের সার্বিক সমর্থনে আমি প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু না জানিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে গত ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিই। পরবর্তীতে সমঝোতার সভা হলেও আমি অন্য কাউকে সমর্থন দিইনি।"

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খণ্ডন করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা মেনেই প্রথমে ক্যাচমেন্ট এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে আরও দুইজনের আবেদনপত্র নেওয়া হয়। পরবর্তীতে একক সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আবুল বাসারের আবেদনসহ যাবতীয় নথিপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার মন্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার জানান, নীতিমালায় কিছুটা অস্পষ্টতা থাকায় প্রধান শিক্ষককে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, "নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা সরকারি কর্মকর্তা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে কী করণীয়—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় সমঝোতা না হলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন