চীনা অনুদান ও বৃত্তি নীতি নিয়ে হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তদন্ত
অনলাইন ডেস্ক: চীনা দাতাদের দেওয়া অনুদান ও অর্থায়নে পরিচালিত নির্দিষ্ট কিছু বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নতুন এক আইনি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
সোমবার (২০ জুলাই) ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্তের ঘোষণা প্রদান করে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উৎস বিশেষ করে চীনের দেওয়া আর্থিক সহায়তা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হার্ভার্ডের কিছু চীনভিত্তিক তহবিলে অন্য দেশ ও মার্কিন নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে টাইটেল সিক্স আইনের চরম লঙ্ঘন করা হয়ে থাকতে পারে।
বিচারের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিল্লন স্পষ্ট করে বলেছেন, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন সরকারের হাজার কোটি ডলারের ফেডারেল ফান্ড গ্রহণ করবে, আবার অন্যদিকে বিদেশি দাতাদের এমন শর্ত মেনে অনুদান নেবে যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ন্যায্য সুযোগ ও বৃত্তি থেকে বাদ দেয়—তা হতে দেওয়া যায় না।"
বিচার বিভাগের তথ্যমতে, গত কয়েক দশকে হার্ভার্ড চীনা উৎস থেকে প্রায় ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা পেয়েছে, আর সব মিলিয়ে বিদেশি উৎস থেকে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে চীনের রিয়েল এস্টেট জায়ান্ট ‘সোহো চায়না’-র সহপ্রতিষ্ঠাতা পান শিই ও ঝ্যাং শিন কর্তৃক প্রদত্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো নির্দিষ্ট তহবিলের স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি এখন প্রশ্নের মুখে।
তবে এই তদন্তকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এক লিখিত বিবৃতিতে হার্ভার্ড জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতি ও টাইটেল সিক্স অনুযায়ী তারা জাতি, বর্ণ বা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অবৈধ বৈষম্য করে না। মার্কিন ও আন্তর্জাতিক—উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যই অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে যোগ্যতার বিচারে স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে নিয়োজিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, "চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একাডেমিক এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক। শিক্ষা ও গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বাধাগ্রস্ত করা একেবারেই অনুচিত।"
উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষায় কথিত ‘ওক’ সংস্কৃতি দমন, ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষ বন্ধ করা কিংবা ভর্তি নীতি বদলে ফেলার মতো বেশ কিছু ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে হার্ভার্ড। ট্রাম্প প্রশাসন ও হার্ভার্ডের মধ্যকার এই বহুমাত্রিক বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করল এই ‘চীনা ফান্ডিং’ তদন্ত।
|