জামালপুরে শিশু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ণ
জামালপুরে শিশু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়নের ভাবকি গোয়ালবাড়ী এলাকায় আট মাসের অবুঝ শিশু শাওনকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের এলাকাবাসী।

আজ শনিবার (৪ ৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভাবকি ফকিরবাড়ী মোড়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিশু শাওন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরকীয়া প্রেমের বলী হতে হয়েছে এই নিষ্পাপ শিশুকে। নিজের অনৈতিক সম্পর্কের পথ পরিষ্কার করতে ঠান্ডা মাথায় আট মাসের সন্তান শাওনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার জন্মদাত্রী মা মোছাঃ শ্রাবন্তী আক্তার। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।” বক্তারা আরও দাবি করেন, এই ঘটনার পেছনে মায়ের পরকীয়া প্রেমিক বা অন্য কোনো কুচক্রী মহল জড়িত আছে কি না, তা নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে নিহত শিশু শাওনের দাদা খাদেম আলী ফকির, দাদী মমেনা বেগম, শোকাচ্ছন্ন বাবা হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শত শত গ্রামবাসী উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন ভোর রাত ৩টার দিকে স্বামী হুমায়ুন কবির ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘাতক মা শ্রাবন্তী আক্তার পরম আদরের সন্তান শাওনকে কোলে নিয়ে চুপিসারে ঘর থেকে বের হন। এরপর শিশুটিকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে লাশ ফেলে দিয়ে রাতের অন্ধকারেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পালাবার পথে ভোর রাতে তিনি হেঁটে ভাবকি বাজারে পৌঁছালে সেখানকার দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাঁরা শ্রাবন্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু শ্রাবন্তী বাড়ি না ফিরে এক অটোরিকশাচালকের বাড়িতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে গাড়ি ভাড়া করার চেষ্টা চালান। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তাঁরা শ্রাবন্তীকে সাময়িকভাবে আটকে রেখে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান।

এদিকে সকাল হতেই বাড়ির পাশের পুকুরে ফুটফুটে শিশুটির নিথর দেহ ভেসে উঠতে দেখেন এক প্রতিবেশী। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ঘাতক মা শ্রাবন্তী আক্তারকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মেলান্দহ থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন