গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনীর নতুন হামলায় আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তুরস্কের সরকারি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালগুলোতে সাম্প্রতিক হামলায় সরাসরি নিহত ছয়জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আরও একজনের লাশ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজ থাকা আরও নয়টি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই সময়ে নতুন করে বিভিন্ন মাত্রায় আহত আরও ১৬ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই হতাহতদের সুনির্দিষ্ট এলাকা বা পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়টির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় গাজায় একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই চুক্তির পর থেকেও ইসরাইলি বাহিনী দফায় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আসছে। চুক্তি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলের চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় মোট ১ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪৪৫ জন।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় শুরু হওয়া ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি ও নৃশংস সামরিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৯০ জনে। দীর্ঘ এই রক্তক্ষয়ী সময়ে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ ও গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৩ জন ফিলিস্তিনি।
টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতে পারে।
এআইএল/সকালবেলা
|