রাজনীতির মাঠ থেকে প্রশাসনিক আলোচনায় মাহফুজুর রহমান রিটন

রাজনীতির মাঠ থেকে প্রশাসনিক আলোচনায় মাহফুজুর রহমান রিটন

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী: রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের আস্থা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছেন শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মাঠকেন্দ্রিক সক্রিয়তার কারণে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি এখন এক সুপরিচিত মুখ। বর্তমানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতাকে ঘিরে এখন নতুন করে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক আলোচনা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে তাঁকে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

মাহফুজুর রহমান রিটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া ও যুগ্ম সম্পাদক এবং পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ধারাবাহিক সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও নিজের নেতৃত্বের পরিধি বিস্তৃত করেন। ছাত্ররাজনীতি শেষে যুবরাজনীতিতে উত্তরণের পর তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ ও দমন-পীড়নের মধ্যেও মাঠে সক্রিয় থেকে দলীয় কার্যক্রম সচল রাখায় তিনি নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের এই গ্রহণযোগ্যতাই তাঁকে রাজশাহীর রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মুখে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সমর্থকদের দাবি, নগর রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে প্রশাসনিক দায়িত্বে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিশেষ করে নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

রাসিকের প্রশাসক হিসেবে আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, "আমি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করেছি। ব্যক্তিগত পদ-পদবী কখনো আমার লক্ষ্য ছিল না। তবে দল এবং জনগণ যদি মনে করে আমি কোনো দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত, তবে সেই দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।" রাজশাহী তাঁর প্রাণের শহর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "প্রশাসনিক দায়িত্ব পেলে সবার আগে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দেবো। আমি কৃতজ্ঞ যে অনেকেই আমার ওপর আস্থা রাখছেন, তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত দলের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমি সর্বদা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।"

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন