মুন্সিগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় ট্রাক জব্দ, গ্রেফতার ১৪
মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্টোর রুমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) ভোর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় দফায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১৪ জুলাই এই মামলার আরও চার আসামিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় অবস্থিত ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে একদল ডাকাত হানা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আটজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের সরঞ্জাম, চায়না ইঞ্জিন ও মোটরসহ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি দুটি ট্রাকে করে লুট করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শাহ আলম (২৩), রনি শিকদার (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), অলিউর রহমান (২৪), জামাল (৪০), মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মাইন উদ্দিন (৪৫), ছোটন (৩০), রিয়াজুল ইসলাম (২৬) এবং আবুল খায়ের (৪০)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার তেজগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় থেকে এই অপরাধ চক্র পরিচালনা করছিলেন।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে দুই দফায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|