ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ইজিবাইক চুরি: সম্বল হারিয়ে দিশেহারা মিয়াজান

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ইজিবাইক চুরি: সম্বল হারিয়ে দিশেহারা মিয়াজান

মোঃ বাপ্পি শেখ, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল যেন এখন চোর ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আবারও হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এই দুর্ধর্ষ চুরির শিকার হন মিয়াজান বিশ্বাস নামে এক অসহায় ব্যক্তি।

ভুক্তভোগী মিয়াজান বিশ্বাসের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নং জামাল ইউনিয়নের হুদাডাউটি গ্রামে। তিনি একজন রোগীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সকালে সদর হাসপাতালে এসেছিলেন। রোগীকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় নিজের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম ইজিবাইকটি নিচে রেখে যান। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ওপরে গিয়ে নিচে ফিরে এসে দেখেন, তার শখের ইজিবাইকটি আর নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিয়াজান বিশ্বাস বলেন:

"অল্প আয়ের সংসারে অনেক কষ্ট করে কিস্তিতে এই ইজিবাইকটি কিনেছিলাম। এটিই ছিল আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র পথ। এখন আমি কিস্তি শোধ করব কীভাবে আর পরিবারই বা চালাব কীভাবে? সব শেষ হয়ে গেল।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চুরির ঘটনা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। গত ১ এপ্রিলও এখান থেকে একটি ইজিবাইক চুরি হয়েছে। শুধু যানবাহন নয়, পকেটমার, রোগীর স্বজনদের টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখানে নিয়মিত ঘটছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ক্ষুব্ধ এক স্বজন প্রশ্ন তোলেন, "চিকিৎসা নিতে এসে যদি আমাদের সর্বস্ব হারাতে হয়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ যাব কোথায়?"

বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা স্থায়ী সমাধান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীসহ সাধারণ জনগণ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। হাসপাতাল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ এবং নিয়মিত পুলিশি টহল নিশ্চিত করার দাবি এখন সবার মুখে মুখে।

মানুষ আশার আলো নিয়ে হাসপাতালে আসে, কিন্তু সেই আঙিনা যদি অনিরাপত্তার প্রতীক হয়ে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গাটি চিরতরে হারিয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এই চোর চক্রকে শনাক্ত করে মিয়াজানের সম্বল ফিরিয়ে দেয়।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন