বন্দরে চাঁদা দাবিতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ণ
বন্দরে চাঁদা দাবিতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কামতাল এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নুরুজ্জামান ও আইরিন সুলতানা রুমা সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মাছুম মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মাছুম মিয়া বন্দর থানাধীন কামতাল মেম্বার মার্কেট এলাকায় ‘আল্লাহর দান ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসায়িক গোডাউন পরিচালনা করেন। গত ৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে লাঙ্গলবন্দ স্ট্যান্ড সংলগ্ন আলী আকবরের চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় নুরুজ্জামানসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাছুম মিয়ার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুজ্জামানের নির্দেশে শাওন নামে এক ব্যক্তি ধারালো সুইচগিয়ার চাকু দিয়ে মাছুম মিয়ার কপালের বাম পাশে কোপ দেন।

এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও নীলাফুলা জখম করে বলে অভিযোগ করেন মাছুম মিয়া। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক নগদ ৫০ হাজার টাকা নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী রুমা বেগম ছিনিয়ে নিয়ে যান।

মাছুম মিয়ার চিৎকার শুনে তাঁর চাচা মোক্তার হোসেন, তাওলাদ হোসেন ও সাখাওয়াত এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মাছুম মিয়াকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানকে নিয়ে এলাকায় আরও নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে আরও দুটি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। অতীতে নাগরিক টেলিভিশনে কর্মরত একজন সাংবাদিককে মারধর ও তাঁর বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নুরুজ্জামানের স্ত্রী আইরিন সুলতানা রুমা বেগম সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নুরুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এলাকার একাধিক মাদকের স্পট পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন