সলঙ্গায় আবাসন প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ণ
সলঙ্গায় আবাসন প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ

আব্দুর রাজ্জাক বাবু (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গার বনবাড়ীয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর থেকে উচ্ছেদ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি, ঘর দখল এবং বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেন, রহমত আলী, জহুরা খাতুন ও নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বনবাড়ীয়া মৌজায় ১১০টি ঘর নিয়ে গড়ে উঠেছে সরকারি আবাসন প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২। এর মধ্যে প্রকল্প-২-এ রয়েছে ৫০টি ঘর। অভিযোগে বলা হয়, ওই অংশের ছয়টি ঘরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার বসবাস করত। প্রকল্প-২-এর সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীর অত্যাচারে পরিবারগুলো আবাসন ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে যাওয়া ঘরগুলো অন্যদের কাছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর ওপর নির্যাতন, প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার সরেজমিনে আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। তাঁদের দাবি, হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো নিজের ইচ্ছায় অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ওই ঘরগুলোতে বসবাসকারীদের ভাষ্য, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারগুলো নিজেরাই ঘর ছেড়ে চলে যায়। দীর্ঘদিন ঘরগুলো পরিত্যক্ত থাকার পর কয়েকটি ঘর মেরামত করে তাঁরা সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের দাবি, হিন্দু পরিবারগুলোকে নির্যাতন করে উচ্ছেদের অভিযোগ সত্য নয়।

ধীরেন চৌকিদারের জামাতা কালা জানান, তিনি শ্বশুরের বরাদ্দ পাওয়া ঘরে প্রায় পাঁচ বছর বসবাস করেছেন। এ সময়ে মুসলিম পরিবারের কেউ তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। সলঙ্গা বাজারে কাজ করা এবং যাতায়াতের সমস্যার কারণে হিন্দু পরিবারগুলো আবাসন ছেড়ে চলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আবাসন প্রকল্প-২-এর সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা একটি চক্রের সদস্য বলে দাবি করেন তিনি।

আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরী, তাঁর ছেলে মোক্তারসহ আজাদ, শাহআলম, জাকারিয়া ও একজন বিএনপি নেতা প্রকল্প-২-এর একটি ঘর চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘর দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের পর ওই চক্রের সদস্যরা ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে একজনকে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে ঘর দিতে না পারায় টাকা ফেরত দিতে হয়। এরপর থেকেই তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরী ও তাঁর ছেলে মোক্তারসহ একটি পক্ষ আবাসন প্রকল্পের সমিতির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। সম্প্রতি প্রকল্পের একটি পুকুর প্রায় ৩০ লাখ টাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই ইজারার টাকা সদস্যদের যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

আমজাদ হোসেন আরও বলেন, প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরী ও তাঁর ছেলে মোক্তার আবাসন প্রকল্পের কয়েকটি ঘর অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলোতে কারা বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং কারা অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীনদের যাচাই-বাছাই করে সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আবাসন প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন, "তদন্ত করেছি, হিন্দু পরিবারগুলো নিজ ইচ্ছায় চলে যাওয়ায় সেই ঘরগুলোতে মুসলিম পরিবার বসবাস করছেন। তবে কিছু অনিয়ম রয়েছে; তদন্ত রিপোর্ট ইউএনও স্যারের কাছে জমা দেওয়ার পর তিনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম বলেন, "তদন্ত রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি; তদন্ত কর্মকর্তা রিপোর্ট দিলে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এআইএল/সকালবেলা