ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আর মাত্র তিন দিন বাকি। প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে উপকূলীয় জনপদ কয়রা-পাইকগাছায় ভোটের আমেজ বইলেও সাধারণ ভোটাররা, বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষরা রয়েছেন নানামুখী ভাবনায়। রোববার খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্বিমুখী চিন্তা-ভাবনার কথা জানা গেছে। কেউ বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার প্রত্যাশার কথা, আবার কেউ বলছেন নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি দেখে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সবার মনেই কাজ করছে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
উপকূলের এই সাধারণ মানুষের কাছে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা। গোবরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বকুলা খাতুন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক নির্বাচনে ভোট দিলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নেতারা জেতার পর আর খোঁজ নেন না। আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানির সমস্যা যেমন প্রকট, তেমনি জোয়ারের সময় উঠান তলিয়ে যাওয়া তাদের নিত্যদিনের কষ্ট। তাই এবার যিনি এই সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস নয়, বরং কাজ করবেন তাকেই ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। একই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানাও আক্ষেপ করে বলেন, বৃষ্টির দিনে নদী ভাঙন ঠেকানোর স্থায়ী কোনো সমাধান কেউ দেয়নি। নির্বাচন আসলে সবাই আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন কেউ করে না।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপকূলের এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের দাবি তুলেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারই হওয়া উচিত আগামী সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এদিকে প্রার্থীরাও থেমে নেই। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী জানিয়েছেন, তিনি জয়ী হলে অবহেলিত উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। উপকূলীয় এই জনপদে এখন শুধু ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের প্রতীক্ষা।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ