ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলার সবকটি আসনেই ধানের শীষের জয় নিশ্চিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় পর মানিকগঞ্জে বিএনপির আধিপত্য আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো। স্থানীয়রা এই ফলাফলকে বিএনপির ‘পুরানো দুর্গ’ উদ্ধার হিসেবে দেখছেন।
মানিকগঞ্জের তিন আসনের বিজয়ীদের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১৮০টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩১০ ভোট।
সিংগাইর-হরিরামপুর নিয়ে গঠিত এ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। ১৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মো. সালাহ উদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির এস এম আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৮১ ভোট।
মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা। ১৫২টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নুর (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ২০ হাজার ৫৫১ ভোট।
রাজনৈতিক গুরুত্ব: মানিকগঞ্জ একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অধিকাংশ নির্বাচনেই এখান থেকে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হতেন। তবে ২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দলটি এখানে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দেড় দশক পর এবারের এই ‘ক্লিন সুইপ’ বিজয়কে দলটির নেতাকর্মীরা তাদের সাংগঠনিক পুনরুত্থান হিসেবে উদযাপন করছেন।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর আফরোজা খানম রিতা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই বিজয় মানিকগঞ্জের মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। আমরা অবহেলিত মানিকগঞ্জকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।" তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কারণে জেলায় কোনো বড় ধরনের বিজয় মিছিল দেখা যায়নি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ