মাদারীপুরে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

মাদারীপুরে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

নাহিদ জামান, মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার এবং হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত বছর শ্রমিক দল নেতা শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের পর এই বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চর কুকরাইল জজ কোর্ট এলাকায় আক্তার হাওলাদার পক্ষের রানা বেপারীর ওপর হাসান মুন্সি পক্ষের ১০-১৫ জন কিশোর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রানার ডান হাত ভেঙে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

রাত সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এ সময় পুরো এলাকায় মুহুর্মুহু হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন—নতুন মাদারীপুর এলাকার রনি মুন্সি (২৫), রনি হাওলাদার (২২) এবং রাশেদ (২৪)। তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এন.ডি/সকালবেলা

মন্তব্য করুন