বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘রাজনীতি’ ও ‘জাতীয় আন্দোলন ও দলীয় কর্মসূচি’ বিভাগের বিশেষ প্রতিবেদনে জামায়াতের এই নতুন আন্দোলনের রূপরেখা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে বিকেল ঠিক ৫টায় রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট এলাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জুন) দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মেহনতি মানুষের পকেট কাটার এক ‘চরম ও নিষ্ঠুর খেলায়’ মেতে উঠেছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে (Budget 2026) সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় জুলুম ও অত্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও বলেন, “এমনিতেই বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। তার ওপর নতুন করে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিবৃতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন আদেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জামায়াত নেতা জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহক তথা খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জও একবারে প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম এক ধাক্কায় এতটা বাড়ার কারণে দেশের শিল্প কলকারখানা ও কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে এক ধরনের মারাত্মক স্থবিরতা নেমে আসবে। উৎপাদন খরচ বাড়লে স্বভাবতই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও কয়েক গুণ বাড়বে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ দুর্বিষহ ও অবর্ণনীয় হয়ে উঠবে।
জামায়াতের দাবি, মূলত বিদ্যুৎ খাতের ভেতরে থাকা সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ‘ক্যাপাসিটি চার্জের’ নামে শাসকগোষ্ঠীর হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার নিরীহ জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির অমানবিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নেই বলেই এমন অমানবিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে এবং আজকের মহানগরের বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা