যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অ্যামচ্যামের গৌরবময় ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উচ্চপ্রযুক্তির হস্তান্তর এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত তিন দশকে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন রচনায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে। এটি কেবল একটি সাধারণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে কার্যকর করার অন্যতম সফল মাধ্যম।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইতিমধ্যে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তবে এই সম্পর্ক কেবল পণ্য কেনাবেচা বা আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রযুক্তি, আধুনিক কর্মসংস্থান, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম প্রাতিষ্ঠানিক অনুশীলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন যে, অ্যামচ্যামের অন্তর্ভুক্ত সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশের মাটিতে ইতিমধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন বিনিয়োগ করেছে। একই সাথে তারা বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় রাজস্বে (এনবিআর) ২০ শতাংশেরও বেশি অর্থ সরাসরি প্রদান করে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান রাখছে, যা এ দেশের অর্থনীতির প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি অ্যামচ্যামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। সরকার এই প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সুবিধা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল সংখ্যক তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, বিশাল অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার এবং আইসিটি, ডিজিটাল ফিন্যান্স, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে যেকোনো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এ ছাড়া অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।