আইসিইউতে ডা. নাসিরকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
আইসিইউতে ডা. নাসিরকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
রাজনীতি ডেস্ক : শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে গিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ১০টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে আইসিইউতে থাকা ডা. নাসিরের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করেন।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ঢামেক হাসপাতালের গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের যদি কর্মস্থলে ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন? এই ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের সার্বিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।”

ডা. নাসির ইসলামের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের আইনের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো চিকিৎসকের ওপর হাত তোলার সাহস না পায়।”

এ সময় জামায়াতের আমির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রোগী লাল মিয়া কাজীর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) নেতা ডা. এস এম খালিদুজ্জামানসহ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসেন। ওই সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে জরুরি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালীনই ওই রোগী মারা যান।

পরবর্তীতে চিকিৎসায় গাফিলতির সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে নিহতের উত্তেজিত স্বজন ও একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় ডা. নাসির মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে ঢাকার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন