শুরুর চমক সামলে ওসনাব্রুকের জালে বায়ার্নের ৪ গোল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
শুরুর চমক সামলে ওসনাব্রুকের জালে বায়ার্নের ৪ গোল
ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের সহজ জয়ে নেতৃত্ব দেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন (ছবি: সংগৃহীত)।

ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে এক অবিশ্বাস্য গোল হজম করে চরম অঘটনের শঙ্কায় পড়েছিল বুন্দেসলিগার জায়ান্ট ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। তবে সেই আকস্মিক প্রাথমিক ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যদের।

দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ভিএফএল ওসনাব্রুককে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে স্বস্তির দাপুটে জয় নিয়ে ডিএফবি-পোকালের (জার্মান কাপ) দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা।

প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই স্তব্ধ হয়ে যায় বায়ার্ন শিবির। মাত্র পঞ্চম মিনিটে বায়ার্ন ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ্ একটি সহজ ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন ওসনাব্রুকের রবিন মেইসনাল। বক্সের অনেক বাইরে থেকে ড্রপ বলে ডান পায়ের এক নিখুঁত ও জোরালো ভলিতে বল সরাসরি বায়ার্নের পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে উল্লাসে ভাসেন তিনি।

মেইসনালের এই জাদুকরী গোল ওসনাব্রুককে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেও তাদের আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৩ মিনিট। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বায়ার্ন। ১৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে জোশুয়া কিমিচের চমৎকার লব ধরে ওসনাব্রুকের দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝখানের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন।

প্রথমে নিখুঁতভাবে মাথায় বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মাটিতে ড্রপ খাওয়ার সাথে সাথে এক নিচু ভলিতে বল জালে জড়িয়ে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এটিই চলতি নতুন মৌসুমে কেইনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক গোল।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় তুলে নেয় বায়ার্ন। অলিস ও লুইস দিয়াসের দারুণ বোঝাপড়ায় গড়ে ওঠা আক্রমণের পর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে নিখুঁত প্রথম শটে গোল করে বায়ার্নকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল মিডফিল্ডার টম বিশফ।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও বায়ার্নের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে যেকোনো অপ্রত্যাশিত নাটকের সম্ভাবনা গুঁড়িয়ে দেন আক্রমণভাগের ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল অলিস। ওসনাব্রুক ডিফেন্ডারের স্লাইডিং ট্যাকল ব্যর্থ হলে চতুরতার সঙ্গে বলের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেন তিনি এবং সামনে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপে বল ঠিকানায় পাঠান। ফলে বায়ার্ন এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি সম্পন্ন করেন হ্যারি কেইন। ওসনাব্রুক গোলরক্ষক সঠিক দিকে ডাইভ দিলেও কেইনের নিখুঁত কোণ ঘেঁষা জোরালো শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাভারিয়ানরা।

মন্তব্য করুন