দলীয় প্রতীকহীন ভোটে বহুমুখী চ্যালেঞ্জে বিএনপি

প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
দলীয় প্রতীকহীন ভোটে বহুমুখী চ্যালেঞ্জে বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নতুন ও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকা এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত অবাধ নির্বাচনের নিশ্চয়তা—এই দুই প্রধান কারণে বিএনপিকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ বা প্রশাসন কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব নেবে না। ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনপ্রিয়তা ব্যবহার করেই ভোটারদের মন জয় করতে হবে।দলীয় প্রতীক না থাকায় একই এলাকা থেকে একাধিক প্রভাবশালী নেতার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূলের কোন্দল মিটিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা এবং ভোট ভাগাভাগি রোধ করা দলটির জন্য বড় পরীক্ষা।মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে তাদের নির্বাচনী তৎপরতা ও প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। জামায়াতের আগাম প্রস্তুতি এবং এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব বিএনপির জন্য কঠিন টক্কর তৈরি করতে পারে।দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয়ভাবে ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ালে তারা বিএনপির ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী তালিকা করা হবে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জয়-পরাজয় নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তার পর তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয়ভাবে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দেড় দশক পর একটি প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করার দায় এখন বিএনপির কাঁধে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন