নৌকার দুর্গ রায়পুরায় এবার কার জয়?

নৌকার দুর্গ রায়পুরায় এবার কার জয়?

নাজমুল হক চৌধুরী, রায়পুরা (নরসিংদী): দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা নরসিংদীর রায়পুরা (নরসিংদী-৫ আসন) দীর্ঘকাল ধরে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু এখান থেকে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নিয়ে এখন পুরো নির্বাচনী এলাকায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এবারের নির্বাচনে রায়পুরা আসনে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ২১টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, একটি নিটোল নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে মূল লড়াইয়ে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় এগিয়ে আছেন চার-পাঁচজন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জামাল আহমেদ চৌধুরী। ফলে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের তরুণ প্রার্থী মাওলানা বদরুজ্জামান উজ্জ্বল (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকের ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান। এছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. পনির হোসেনও একটি বড় ভোটব্যাংক নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

রায়পুরার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে এবারের প্রধান ইস্যু হলো দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দাঙ্গা ও টেটাযুদ্ধ বন্ধ করা। গত কয়েক বছরে চরাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, যিনি চরাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন এবং জান-মালের নিরাপত্তা দেবেন, তাকেই তারা বেছে নেবেন। অন্যদিকে, নতুন ও তরুণ ভোটাররা উন্নয়ন, সুশাসন এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করার কথা জানিয়েছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত সোমবারই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন পুলিশের পক্ষ থেকে 'বডি অন ক্যামেরা'সহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। নৌকার দুর্গে ধানের শীষের পুনরুত্থান ঘটবে, নাকি স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী বা হাতপাখা নতুন ইতিহাস গড়বে—তা এখন কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই জানা যাবে।

মন্তব্য করুন