শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন: বুলু

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ণ
শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন: বুলু

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, বরং তিনি অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেন, “শেখ মুজিব স্বাধীনতা না চাইলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে নিজে যুদ্ধ করে এ দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।”

গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালীর চৌমুহনী পাবলিক হল চত্বরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, “গত ১৬ বছরে যাদের ন্যূনতম পৌরসভার কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা মেয়র হয়েছেন। আর যাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা দেশের এমপি বনে গিয়েছিলেন। এই সকল অযোগ্য জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দলীয় পরিচয়ে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিয়ে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। আর তাদের ইন্ধনেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, জমি দখল, জুয়া ও কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধের রাজত্ব কায়েম হয়, যার ফলে পুরো দেশ এক অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল।”

অপরাধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “যারা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা করেন, অস্ত্র দিয়ে ডাকাতি ও মানুষ খুন করেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী ডেকে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো আরেকটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আপনাদের উচ্ছেদ করা হবে। বেগমগঞ্জের মাটিতে কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা অপরাধীর স্থান হবে না। এসব জঘন্য অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, আমাদের সঙ্গে অনেক সময় সুযোগ বুঝে অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীরা ছবি তুলতে পারে, কারণ আমরা তো সবাইকে চিনি না। তবে সে যেই হোক না কেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে সামাজিকভাবে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

এ সময় তিনি আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জুমার খুতবা ও ক্লাসে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বুলু বলেন, “বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে। তবে এই ঐতিহাসিক বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথম সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও গতিশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেত্রী শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজুল হক আবেদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকি এবং চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব মহসিন আলমসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন