ক্যান্সারের চিকিৎসায় ফের হাসপাতালে ভর্তি অভিনেত্রী দীপিকা কক্কর
বিনোদন ডেস্ক: ভারতীয় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিচিত মুখ দীপিকা কক্করের ক্যান্সারের দীর্ঘ লড়াই ও চিকিৎসা এখনও চলমান। তাঁর ক্যান্সারের দ্বিতীয় দফার ইমিউনোথেরাপি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। চিকিৎসকেরা তাঁকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও, দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল এই চিকিৎসাপ্রক্রিয়া তাঁর দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে-জুন মাসের দিকে দীপিকার যকৃতে (লিভার) দ্বিতীয় পর্যায়ের (স্টেজ-২) ক্যান্সার শনাক্ত হয়। রোগ ধরা পড়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর যকৃৎ থেকে একটি টেনিস বলের সমান বড় টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই মূলত তাঁর নিয়মিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। আর এই দীর্ঘ চিকিৎসা চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
সম্প্রতি নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব ভ্লগে দীপিকার বর্তমান শারীরিক অবস্থার নানাদিক ভক্তদের সামনে তুলে ধরেন তাঁর স্বামী তথা অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিম। সেই একই ভিডিওতে দীপিকা নিজেও তাঁর এই কঠিন চিকিৎসাজনিত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন।
দীপিকা কক্কর বলেন, ‘হাসপাতালে আসা-যাওয়াটা এখন যেন আমার জীবনের একটা নিয়মিত রুটিন হয়ে গেছে। প্রতি ২০ থেকে ২১ দিন পরপরই চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কারণে আমাকে বাধ্যতামূলকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।’
অভিনেত্রীর স্বামী শোয়েব জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যান্সারের ওষুধের প্রভাবে দীপিকার শরীরে মারাত্মক আয়রনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে তাঁকে আইভি (IV) আয়রন ড্রিপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার (Side Effects) কারণে তাঁর শরীরে অতিরিক্ত ঝিমুনি ও দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় এক রাতের জন্য হাসপাতালে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাঁকে।
তবে নিজের এই মরণব্যাধি অসুস্থতা বা শারীরিক কষ্টের চেয়েও, দীপিকাকে সবচেয়ে বেশি পুড়িয়ে মারছে তাঁর একমাত্র ছোট ছেলে রুহানের দুশ্চিন্তা। দীপিকার মতে, গত কয়েক সপ্তাহে তাঁদের ছোট্ট ছেলের আচরণে বেশ কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে মায়ের এই আশঙ্কাজনক অসুস্থতা, ঘন ঘন হাসপাতালে যাতায়াত এবং ঘরের ভেতর পরিবারের স্বাভাবিক ও আনন্দময় পরিবেশের অভাব ছোট্ট রুহানের অবুঝ মনে এক গভীর মানসিক প্রভাব ফেলছে।
দীপিকা আক্ষেপ করে বলেন, ‘রুহান আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ও জেদি হয়ে পড়েছে।’ আর এই কারণেই চিকিৎসার চরম ব্যস্ততা ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও ছেলে রুহানের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তাঁর সঙ্গে যতটা সম্ভব কোয়ালিটি টাইম বা সময় কাটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই তারকা দম্পতি।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই নিজের শারীরিক অবস্থা কিংবা মানসিক ভাঙাগড়ার গল্প নিয়ে ভক্তদের সঙ্গে সবসময় খোলামেলা ও ইতিবাচক কথা বলে আসছেন ‘সাসুরাল সিমার কা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। এর আগেও তিনি এক ভ্লগে জানিয়েছিলেন, নিয়মিত কড়া চিকিৎসা, তীব্র শারীরিক দুর্বলতা এবং বারবার হাসপাতালে যাতায়াতের কারণে আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে জীবনযাপন করা তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে নিজের সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার যে গভীর অপরাধবোধ ও কষ্ট, তা-ই তাঁকে মানসিকভাবে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়।
তবে দীপিকা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যেকোনো গুরুতর অসুস্থতা শুধু একজন মানুষের শরীরকেই শেষ করে না, বরং তাঁর পুরো পারিবারিক জীবন, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দৈনন্দিন বাস্তবতাতেও এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসে। তবুও চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে ধীরে ধীরে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও চেনা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শতভাগ আশাবাদী তিনি। প্রিয় অভিনেত্রীর এই কঠিন সময়ে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছেন দুই দেশের লাখো ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
|