ইকরার মৃত্যু: অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন মেলেনি

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ণ
ইকরার মৃত্যু: অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন মেলেনি

বিনোদন ও আদালত প্রতিবেদক: স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার ওরফে জাহের আলভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির আলভীর আইনজীবীদের করা জামিন আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন নাকচের এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুনানিতে আলভীর পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম জামিন চেয়ে জোরালো আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ২৪ জুন আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৩০ জুন তাকে পুনরায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন অভিনেতা জাহের আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন, যার প্রেক্ষিতে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

আলোচিত এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া রহস্যজনক অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিক ও স্বজনরা মিলে তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইকরাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই দিন রাতেই পল্লবী থানায় অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।

মামলায় ইকরার বাবার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের গভীর ‘পারিবারিক কলহ, মানসিক নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা নিজের জীবন বিসর্জন দিতে তথা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভিনেতা জাহের আলভী ও ইকরা দীর্ঘ প্রেমের পর গত ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের এক যুগেরও বেশি সময়ের সংসারে একটি কন্যাসন্তান/ছেলে সন্তান (সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে) রয়েছে। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁর বয়স ও সার্বিক বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে প্রধান আসামি আলভীর ভাগ্যে এবারও জামিন মেলেনি।

মন্তব্য করুন