জামায়াত-এনসিপির প্রশ্রয়ে আওয়ামী দোসররা সক্রিয় হচ্ছে: রাশেদ খানের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ণ
জামায়াত-এনসিপির প্রশ্রয়ে আওয়ামী দোসররা সক্রিয় হচ্ছে: রাশেদ খানের

অনলাইন ডেস্ক: পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আশকারা দিয়ে পুনরায় মাঠে সক্রিয় করার পেছনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সরাসরি দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ও ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে তারা গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে সমাজে পুনর্প্রতিষ্ঠা বা 'নরমালাইজ' করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব আশঙ্কাজনক বার্তা ও অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।

ফেসবুক পোস্টে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে রাশেদ খান লেখেন, ‘এত বড় গণহত্যার পরও কীভাবে আওয়ামী লীগ ফের রাজপথে আসার দুঃসাহস দেখাচ্ছে? এর মূল কারণ হলো, বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ঠিকাদারি গ্রহণ করেছে। তারা লং মার্চ থেকে শুরু করে আগামী ডিসেম্বরে সরকার পতনের আন্দোলনের যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তা মূলত অশুভ শক্তিকেই মদদ দিচ্ছে।’

সাম্প্রতিক উদাহরণ টেনে রাশেদ খান লেখেন, ‘ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে কোনো শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট না করলেও ২০২৬ সালে এসে হঠাৎ পোস্ট করেছেন! এর থেকে স্পষ্ট যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যেসব আওয়ামী দোসররা ভয়ে চুপচাপ ছিল, বিরোধী শক্তির হঠকারী কর্মকাণ্ডের কারণে তারা এখন আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে শুরু করেছে।’

বিরোধী দলগুলোর লাগাতার কর্মসূচি ও এক দফার আলটিমেটামের সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে পুরোনো আগুন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিরোধী জোড়ের অস্থিতিশীল সিদ্ধান্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়া, ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ শুরু করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কর্মীরা। উপরন্তু জামায়াত-এনসিপি এই নাশকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে বলছে— ১১ দফার দাবি মেনে নিলে নাকি আর ককটেল ফুটবে না! এভাবেই তাদের আশকারা পেয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দোসররা এখন প্রকাশ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে।’

রাজধানীর সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা, বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাশেদ খান এটিকে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্বীকার করেন, ‘বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেকোনো দল ক্ষমতায় গেলে দলে কিছু সুবিধাবাদী লোকের অনুপ্রবেশ ঘটে। রাড্ডা ক্লিনিকে ঠিক তেমনি কিছু সুবিধাবাদীদের ব্যবহার করে একটি ষড়যন্ত্রমূলক নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’

মন্তব্য করুন