রেকর্ড বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভাসছে ৩ দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
রেকর্ড বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভাসছে ৩ দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ—থাইল্যান্ড, ভারত এবং মিয়ানমারে মুষলধারে অতিভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে তীব্র বন্যা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রলয়ঙ্করি বন্যায় তিন দেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে পানিবন্দি ও গৃহহীন হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পৃথক প্রতিবেদন থেকে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় দৈনিক 'দ্য নেশন' দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন বিভাগকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রাজধানী ব্যাংককসহ দেশটির প্রায় ২৯টি প্রদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২৬ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৬৭টি উপজেলা, ৮৯০টি ইউনিয়ন এবং ৫ হাজার ৭৭টি গ্রাম বর্তমানে সম্পূর্ণ পানির নিচে রয়েছে। এতে ৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০০টি পরিবার সরাসরি দুর্যোগের কবলে পড়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের শীর্ষ বার্তা সংস্থা 'টাইমস অব ইন্ডিয়া' উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয়ের বরাতে জানায়, গত ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যটিতে নজিরবিহীন বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ৮১ জন নিহত এবং ৬২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৫৬টি জেলাতেই অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে গড়ে ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৭৫ শতাংশ বেশি। বন্যায় ২ হাজার ২৫৪টি বসতবাড়ি ধ্বংস এবং বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম 'ইরাবতী' মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩০ জন। বানের পানিতে দক্ষিণাঞ্চলের শত শত এলাকা প্লাবিত হয়ে সাধারণ মানুষ মূল ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সেখানে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন