মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত
জাতীয় সংস

বিশেষ প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আজ সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, sovereignty (সার্বভৌমত্ব), নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো সুদৃঢ় হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষে এই সফর ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ, যা দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অতীতে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবহেলা করা হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন।

প্রস্তাব উত্থাপনকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সফল এই সফরকালে চীনের সঙ্গে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও ফিরে আসার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি অনন্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা—পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দেশের শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এই ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করার এবং সংসদকেই রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

মন্তব্য করুন