হাসিনাকে বহন করা চার পাইলট কারা ছিলেন, তারা এখন কোথায়

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
হাসিনাকে বহন করা চার পাইলট কারা ছিলেন, তারা এখন কোথায়
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান।

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের চরম মুহূর্তে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নানা ঘটনা ও রহস্য আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে গণভবন থেকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজ এবং পরবর্তীতে ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যাত্রায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কোন কোন পাইলট দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন—তা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক সূত্রের বরাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরবেলা গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নিয়ে আসে বিমানবাহিনীর একটি ‘এমআই-১৭’ হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটির প্রধান চালক (পাইলট) ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং তাঁর সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। হেলিকপ্টারটি ওই দিন বেলা প্রায় ৩টার দিকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনাবহুল এই যাত্রার পর এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। তিনি সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন এবং বর্তমানে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের 'এয়ার হেডকোয়ার্টার্স ইউনিট'-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে কো-পাইলটের দায়িত্বে থাকা গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বিমানবাহিনীর বাশার এয়ার বেইজে 'ওসি (অ্যাডমিন)' হিসেবে কর্মরত আছেন।

অন্যদিক, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল 'সি-১৩০ জুলিয়েট' মডেলের একটি সামরিক পরিবহণ বিমান। সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সঙ্গীরা ওঠেন এবং ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা হন। এই পরিবহণ বিমানটির পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ভারতের সময়ানুসারে ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

নিরাপত্তাজনিত গোপন কৌশলের অংশ হিসেবে আকাশপথে উড্ডয়নের সময় বিমানটির 'ট্রান্সপন্ডার' সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং স্বাভাবিক আকাশসীমার বদলে বিকল্প পথ ব্যবহার করে এটি ভারতে প্রবেশ করে। শেখ হাসিনাকে নামিয়ে দিয়ে ওই দিনই বিমানটি ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।

পরবর্তীতে এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পেশাগত কোর্সে অংশ নিতে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। আর বিমানে থাকা কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা পরিদপ্তরে নিয়মিত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন