ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই-যোদ্ধা: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই-যোদ্ধা: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের নজিরবিহীন আত্মত্যাগের পর সরকার ও ক্ষমতার হাতবদল হলেও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও মানুষের অসৎ মন-মানসিকতার কোনো গুণগত পরিবর্তন না হওয়ায় গভীর আক্ষেপ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "আগে যাঁরা ঘুষ খেতো, তারা এখনো ঘুষ খাওয়ার নতুন ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিত, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। লোকজন শুধু নিজেদের ভোল পাল্টাচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো, সেই ভোল পাল্টানো সুযোগসন্ধানী লোকজনই এখন সবচেয়ে বেশি জুলাই-যোদ্ধা সেজে বসে গেছে

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন

সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পরিচালনার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বলেন, "আক্ষেপে এই কথাগুলো বলছি, কারণ আমার বয়স অনেক হয়েছে। আমি জীবনে সত্যিকার অর্থেই এবার ক্ষমতার পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি দেখছি যে, বাস্তবে কিছুই বদলায়নি।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল সরকার গঠন বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, প্রকৃত সংস্কারের জন্য সমাজের প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও মন-মানসিকতার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন; তা না হলে জুলাইয়ের আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে। 

তবে হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি এখনো সম্পূর্ণ আশাবাদী। কারণ আমি অন্তত একজন মানুষের মধ্যে সত্যিকারের পরিবর্তন করার তাগিদ দেখছি—তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইতিবাচক নজির স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই নজিরকে যদি আমরা সবাই মিলে ধারণ করে সামনে নিয়ে যেতে পারি, তবেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।"

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণদের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ দেশে সবসময় পরিবর্তন এসেছে। অসংখ্য পরিবারের সন্তান হারানোর বেদনা তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা সমাজে সাম্য ও সততা প্রতিষ্ঠা করতে পারব

অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের বিশেষ স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন এবং ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। আলোচনার শুরুতে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়

মন্তব্য করুন