শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের নিষেধাজ্ঞা
শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড বা মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই কঠোর তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কমিটির বিশেষ বৈঠকে এই নীতিগত অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট করেছে।

কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পরিচালিত ওই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো আইনি অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সম্প্রতি জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্কৃতি ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ঐতিহ্যগত নীতির আলোকেই শেখ হাসিনাকে সাময়িকভাবে সে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ভারত কঠোরভাবে এই সার্বভৌম নীতি অনুসরণ করছে যে—তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাল চালানো যাবে না।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই বহুল আলোচিত প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি ভারতকে একটি সুনির্দিষ্ট ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান ধরে রাখার সুপারিশ করেছে। একই সাথে সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অবিলম্বে সব ধরনের স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে চালুর আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ থমকে যাওয়ায় দুই দেশের সাধারণ জনগণের স্তরে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে, যা সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার দীর্ঘ দুই বছর পর অতি সম্প্রতি (২০২৬ সালের ২৮ জুন) পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করেছিল ভারত।

১৯৯৬ সালে ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এ সংবেদনশীল বিষয়টি সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার জোরালো তাগিদ দিয়েছে কমিটি। কমিটির মতে, গঙ্গার নতুন চুক্তি করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক জলপ্রবাহের সঠিক তথ্য, ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামতকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি যেন ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে অব্যাহত থাকে, সে বিষয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।