কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ: অগ্রগতির পথে বিএডিসির বিশেষ প্রকল্প

প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ: অগ্রগতির পথে বিএডিসির বিশেষ প্রকল্প

অনক আলী হোসেন শাহিদী: দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্মত বীজ সরবরাহের বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়ন করছে “কৃষক পর্যায়ে বিএডিসির বীজ সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণ” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কৃষি মন্ত্রণালয়-এর পরিকল্পনা অনুবিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পটির অগ্রগতি মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতির তুলনায় বেশি, যা বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।


প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ২৮২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। ভৌত অগ্রগতি ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহাবুবুল আলম জানিয়েছেন, দেশব্যাপী সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


বিএডিসির চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছে মানসম্মত বীজ পৌঁছে দেওয়ার একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বীজের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় বীজ পেতে পারেন।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এই প্রকল্পটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করে এর সুফল সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে উন্নত ও মানসম্মত বীজ সহজলভ্য করা। বিশেষ করে বীজ সংকটাপন্ন অঞ্চলগুলোতে সরবরাহ জোরদার করা হলে কৃষি উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।


প্রকল্পের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ডিপিপি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সমাপ্ত করা, বীজ সংকটাপন্ন এলাকায় সরবরাহ জোরদার করা, প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণাগার নির্মাণের স্থান পরিবর্তন, রাস্তা নির্মাণে উপযুক্ত প্রশস্ততা নিশ্চিত করা, বীজ সংরক্ষণাগারে লোডিং-আনলোডিং সুবিধা সংযোজন এবং বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্প সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ।


সার্বিকভাবে, “কৃষক পর্যায়ে বিএডিসির বীজ সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পটি দেশের কৃষি খাতে একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং দেশের কৃষকরা এর সুফল ভোগ করবেন।