সৌদির আকাশ সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান ও সামরিক সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ণ
সৌদির আকাশ সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান ও সামরিক সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ও ধারাবাহিক হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবকে সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি শহর ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোকে আকাশপথের সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) শক্তিশালী টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে যুক্তরাজ্য পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তারা সৌদি আকাশসীমায় কেবল প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে অংশ নেবে, কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক হামলায় জড়াবে না।

ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই নতুন সামরিক সহায়তার মূল দিকগুলো হলো—১. টাইফুন যুদ্ধবিমান ও আকাশ টহল: আরএএফের টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আকাশসীমায় নিয়মিত প্রতিরক্ষামূলক টহল পরিচালনা করবে। এর মূল লক্ষ্য হবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করে সৌদি শহর ও অবকাঠামো রক্ষা করা।২. পরিবহন বিমান ও সামরিক উপদেষ্টা: সৌদি আরবের অভ্যন্তরে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত জরুরি সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত পরিবহনের জন্য একটি এ-৪০০এম পরিবহন বিমান সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি সৌদি সামরিক বাহিনীকে কৌশলগত সহায়তা দিতে ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করবেন।৩. জ্বালানি সরবরাহ ও পূর্বের সহায়তা: এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভয়েজার ট্যাংকার বিমান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল লন্ডন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সহায়তার পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘটনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে লন্ডন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে ইয়েমেন সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করার ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ উপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে।