গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার কারখানায় কর্মী ছাঁটাই

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার কারখানায় কর্মী ছাঁটাই

মহিউদ্দিন আহমেদ (বিশেষ প্রতিবেদক, গাজীপুর): গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চারটি কারখানা থেকে একযোগে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলো লে-অফে থাকার পর হঠাৎ ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্তে চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধে ব্যর্থতা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো দফায় দফায় লে-অফে ছিল। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত পদ বিলুপ্ত করে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী সবার প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকালে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় জমান শ্রমিকেরা। দীর্ঘদিন কাজ করার পর হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করা সুইং সেকশনের অপারেটর মিনারা বেগম ও ১৯ বছর ধরে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবেদা বেগম জানান, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে তাঁরা দিশেহারা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করা হবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা