গ্যাস সংকট আমদানিনির্ভর নীতির ফল: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ণ
গ্যাস সংকট আমদানিনির্ভর নীতির ফল: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
জ্বালানি খাতের চলমান পরিস্থিতি ও সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

অনলাইন ডেস্ক: দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশের গ্যাস খাতকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমদানিনির্ভর করে ফেলার কারণেই আজকের এ সংকটের উৎপত্তি।

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

সংকটের নেপথ্য ও সাময়িক ধাক্কা:

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "গ্যাস সরবরাহে সাময়িক কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তার সরাসরি ধাক্কা গিয়ে পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, যা পর্যায়ক্রমে শিল্পকারখানা ও জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।" চলমান সংকটের ফলে গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং এবং রাজধানীতে দেখা দেওয়া বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, গত জুলাই মাসে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে হঠাৎ গ্যাসের টান পড়ে।

আমদানিনির্ভর নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান:

উপদেষ্টা বলেন, "বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। সাবেক সরকারের আমলে দেশীয় অনুসন্ধানের বদলে এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে কেবল অতীতকে দোষ দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই, বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই টেকসই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। সরকার সংকট কাটাতে যেসব দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ও উদ্যোগ নিয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হতে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যাবে।

মন্তব্য করুন