আবার সক্রিয় হচ্ছে ফুয়েল পাস, প্রথমে কার্যকর মোটরসাইকেলে
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ, বিপণন ও বণ্টন ব্যবস্থায় সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুনরায় 'ফুয়েল পাস' বা ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা সক্রিয় করার সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলচালকদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা জোরদার ও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার রেশ ধরে চলতি বছরের মার্চ মাসেই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে দেশে এই ফুয়েল পাস ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দেশে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছালে বিপিসির পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থার ব্যবহার শিথিল বা সীমিত করা হয়েছিল।
গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সুযোগে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল মজুত করার নজিরবিহীন প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ সৃষ্টি হয়। অস্বাভাবিক এই চাহিদা এবং আমদানি শঙ্কার মুখে বিপিসি এপ্রিল মাস থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল ক্রয়ে কার্ড বা ফুয়েল পাসের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। তবে মে মাসে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে এলে পাম্পগুলোতে পাসের কঠোরতা তুলে নেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল জানান, "ফুয়েল পাস ব্যবস্থা কখনোই সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি বা এর জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনাবলিও প্রত্যাহার করা হয়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এর প্রয়োগ কিছুটা কমে এসেছিল। সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা এখন পাম্পগুলোতে পুনরায় এটি পুরোপুরি সক্রিয় করার নির্দেশনা প্রদান করেছি।"
তিনি নিশ্চিত করেন যে, যেসব নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস ব্যবস্থা পূর্বে চালু করা হয়েছিল, গ্রাহকদের সেখান থেকে এখন নির্ধারিত পাস প্রদর্শন করেই কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ঢাকার শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনে এই ফুয়েল পাস চালু করে সফলতা পাওয়া গিয়েছিল। পাম্পগুলোতে এখনো ফুয়েল পাস নিয়মাবলী সম্পর্কিত নির্দেশিকা ও বিশেষ ব্যানার দৃশ্যমান রয়েছে, যা এখন থেকে পুনরায় কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।
|