সময়ের চাহিদা ও আগামী প্রজন্মের কথা ভেবেই সংবিধান সংশোধন: চিফ হুইপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ
সময়ের চাহিদা ও আগামী প্রজন্মের কথা ভেবেই সংবিধান সংশোধন: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদ ভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

দেশের সার্বিক ভবিষ্যৎ, রাষ্ট্রের টেকসই রূপান্তর এবং অনাগত নতুন প্রজন্মের জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংবিধান সংস্কার করা হচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কোনো স্বল্পমেয়াদি সুবিধাপ্রাপ্তি বা সাময়িক লক্ষ্য অর্জনের জন্য নয়; বরং সময়ের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত নবগঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের প্লাজায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা তুলে ধরেন তিনি।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “সংবিধান একটি জীবন্ত ও গতিশীল রাষ্ট্রীয় দলিল। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং দেশের জনগণের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সংস্কার প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের গঠনমূলক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হবে।”

বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের অবস্থান ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশই এবার প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। ফলে সংবিধানের জটিল আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তাদের পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন ও কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ নমনীয় ও উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে।

উদার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “আমাদের আলোচনার দরজা সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে। বিরোধী দল থেকে নাম প্রস্তাব করা মাত্রই তাদের সম্মানিত সদস্যদের এই বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাষ্ট্রগুলোতেও যুগের চাহিদা অনুযায়ী একাধিকবার সংবিধান সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও রাষ্ট্র ও নাগরিকের প্রয়োজনে সংবিধানের সময়োপযোগী আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ের শেষভাগে মো. নূরুল ইসলাম পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সংবিধান সংশোধনের প্রতি পদে প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত ও পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হবে। সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে।

মন্তব্য করুন