বোরকা পরে ভূমি অফিস পরিদর্শনে ঢাকার ডিসি
বিশেষ প্রতিবেদন: ভূমি অফিসে আর ১০টি সাধারণ দিনের মতোই সেবাগ্রহীতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ এসেছেন নামজারি সংক্রান্ত কাজ নিয়ে, আবার কেউ বা ঘুরছেন আটকে থাকা আবেদনের সবশেষ আপডেট জানতে। ঠিক সেই ভিড়ের মাঝে বোরকা পরিহিত অবস্থায় নিভৃতে প্রবেশ করেন এক নারী। পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই নিতান্তই সাদামাটা ভঙ্গিতে নিজেকে একজন সাধারণ সেবাপ্রার্থী বলে পরিচয় দেন তিনি। তবে কিছু সময় পার হতেই ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা; জানা যায়, বোরকার আড়ালে থাকা সেই নারী আর কেউ নন, স্বয়ং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
কাগজে-কলমে ঘোষিত সেবার মান আর বাস্তবে সাধারণ মানুষের প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে কতটা তফাত রয়েছে, তা নিজ চোখে পরখ করতেই নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপস্থিত হন তিনি। ছদ্মবেশে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অন্যান্য সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা ধরনের অভিযোগ, অসুবিধা ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার এমন ব্যতিক্রমী ও আকস্মিক পরিদর্শনের তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশ, ভূমিসেবা গ্রহণ করতে এসে সাধারণ নাগরিকরা কোনো ধরণের অনিয়ম, অযৌক্তিক বিলম্ব, হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কি না—তা সরাসরি জানাই ছিল এই পরিদর্শনের প্রধান উদ্দেশ্য। শুধু অন্যদের কথা শোনাই নয়, তিনি নিজে একজন সাধারণ নাগরিকের মতো অফিসে সেবাদানের পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীদের দাপ্তরিক গতিশীলতা এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি তাদের আচরণ ও মনোভাব কেমন, তা কড়া নজরে রাখেন ডিসি ফরিদা খানম। দাপ্তরিক জটিলতা কমিয়ে সেবাদান ব্যবস্থা কতটা সহজ করা সম্ভব, সে বিষয়েও তিনি সরেজমিনে সম্যক ধারণা নেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনো রকম অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র দাপ্তরিক প্রতিবেদন বা লিখিত অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এভাবে ছদ্মবেশে মাঠে নেমে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করলে সরকারি সেবার প্রকৃত বাস্তবচিত্র অনুধাবন করা সহজ হয়। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
এআইএল/সকালবেলা