বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানির অনুমোদন দিল চীন
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশি কৃষিপণ্য ও ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিন আলোচনার পর অবশেষে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ অনুমোদনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই চীনের কাস্টমস বিষয়ক শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস অব চায়না’ (জিএসিসি) বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানির এই অনুমোদনপত্রটি জারি করে।
জারিকৃত আদেশে উল্লেখ করা হয়—চীনের নির্ধারিত সব ধরনের কোয়ারেন্টাইন ও আমদানি শর্ত পূরণসাপেক্ষে এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাসঙ্গিক আইন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রবিধান অনুসরণ করে প্রস্তুতকৃত কাঁঠাল অবিলম্বে চীনে আমদানি করা যাবে। আদেশের পর থেকেই এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি শর্ত ও চুক্তি ছিল চীন কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁঠাল আমদানি করা।
এর আগে গত বছরের মে মাসে চীন প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে সুস্বাদু ও গুণগত মানের কাঁচা আম আমদানি শুরু করেছিল। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় চীনা তদারকি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের কাঁঠাল ও পেয়ারার গুণগত মান পর্যালোচনার পর এসব ফল আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত কাঁঠালের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ও আমদানিকারক দেশ হলো চীন। এত দিন তারা নিজেদের বিশাল চাহিদার সিংহভাগই প্রতিবেশী ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে পূরণ করে আসছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক ফল রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অংশ এতদিন বেশ সীমিত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিংয়ের এই অনুমোদনের ফলে দেশের কাঁঠাল চাষি ও কৃষিভিত্তিক রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে এক বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ পাবেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় অবদান রাখবে।