ভূমধ্যসাগরে ভাসমান নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার, মৃত্যু ১০

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরে ভাসমান নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার, মৃত্যু ১০
লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রষ্ট হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যবহৃত রাবারের নৌকা।

অনলাইন ডেস্ক: লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়া একটি রাবারের নৌকা থেকে মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায় ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ দিন সাগরে খাবার, পানি ও জ্বালানিহীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় প্রচণ্ড রোদ ও পানিশূন্যতায় ৯ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূল অঞ্চল থেকে সেখানকার স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে মর্মান্তিক এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দূতাবাসের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জনের একটি দল লিবিয়ার তবরুক উপকূল এলাকা থেকে ছোট একটি রাবারের নৌকায় চড়ে সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন।

নৌকাটি একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনের সাহায্যে চালানো হলেও দিকনির্ণয়ের জন্য ছিল না কোনো আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা বা অভিজ্ঞ নাবিক। পাচারকারীরা যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছিল, সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা নিরাপদে গ্রিস উপকূলে পৌঁছে যাবেন।

তবে সমুদ্রে দিকনির্ণয় করতে না পেরে একপর্যায়ে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে নৌকাটি। কিছু সময় পর ইঞ্জিনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি খোলা ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে অলসভাবে ভাসতে থাকে।

টানা ১০ দিন তীব্র রোদ, প্রখর উত্তাপ এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির চরম সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি নাগরিক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিম নামক এক বাংলাদেশি বেঁচে ফেরা যাত্রী জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোতে দ্রুত পচন ধরতে শুরু করে। ফলে বাধ্য হয়ে জীবিত অন্য যাত্রীরা স্বজন ও সহযাত্রীদের মৃতদেহগুলো উত্তাল সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন।

গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি দিক হারিয়ে ভেসে মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছালে মিসরীয় কোস্টগার্ড ও পুলিশ লাইফবোট পাঠায়। সেসময় ১৮ জন মারাত্মক সংজ্ঞাহীন ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বর্তমানে ২৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কায়রো দূতাবাসের উদ্যোগে তাঁদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন