অনলাইন ডেস্ক: ছেলেরা বুয়েট শিক্ষক ও যুগ্ম সচিব হলেও নিজ ঘরে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরা পর্যন্ত কেউ খোঁজ নেয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তোলা এই ঘটনাটি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ওই বৃদ্ধা নারীর করুণ মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “সাত-আট দিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম সচিব, অন্য ছেলে কানাডাপ্রবাসী। এ দেশের অধিকাংশ মা-বাবা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছেন।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেওয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।”
তিনি আরও লেখেন, “যে সফলতা মা-বাবার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।”
দ্বিন, মূল্যবোধ ও নৈতিকতাহীন শিক্ষার সমালোচনা করে আহমাদুল্লাহ বলেন, “মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যত দিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, তত দিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।”
প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগম (৭২) নামের ওই বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত রবিবার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়ার প্রায় সাত থেকে আট দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পারিবারিক দায়িত্বহীনতার এই ঘটনাটিকে ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।