শিস দেওয়ার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ণ
শিস দেওয়ার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আপনি কি জানেন যে আপনি নিজের সাথে সব সময় চমৎকার এক ছোট্ট অদৃশ্য বাদ্যযন্ত্র বহন করেন? যখনই আপনি মন মেজাজ ফুরফুরে করতে এটি বাজাতে চান, আপনাকে আলাদা কোনো খাটনি করতে হবে না; শুধু আপনার ঠোঁট দুটিকে গোল করে তার মধ্যে দিয়ে সামান্য বাতাস বের করতে হবে। সাধারণ ভাষায় অনেকেই এটাকে শিস দেওয়া বা বাঁশি বাজানো বলেন। শিস বাজানো আসলে এমন ধরনের এক চমৎকার ব্যাপার যা আপনি যেকোনো স্থানে, যেকোনো অবস্থায় চাইলেই করতে পারেন। প্রথাগত গান গাওয়ার মতো এর কোনো পিচ বা স্কেলের সীমাবদ্ধতা নেই, এমনকি এর সঙ্গে গলা ব্যথা কিংবা কর্কশ স্বর হয়ে যাওয়ারও কোনো সম্পর্ক নেই। তবে শুধু বিনোদনই নয়, এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্যগত অনেক আশ্চর্যজনক উপকারিতাও।

শিস দেওয়া শুধু আপনাকে নিজের পছন্দের সুর তৈরি করতে বা বুনো পাখির ডাক অনুকরণ করতেই সাহায্য করে না, বরং এটি আপনার প্রাত্যহিক জীবনের মানসিক চাপ নিমেষে কমাতে অত্যন্ত জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। লাইফস্টাইল বিষয়ক আন্তর্জাতিক পোর্টাল ‘হেলদি বিল্ডার্স’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শিস দেওয়ার চমৎকার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


আপনি অফিসের চার দেয়ালের মধ্যে কাজের চাপে থাকুন, কিংবা অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে তীব্র ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে থাকুন, অথবা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটনির পর রান্নাঘরে রাতের খাবার গরম করুন যাই হোক না কেন, অবলীলায় মুখে একটু শিস বাজাতে পারেন। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, এটি মানুষের তাৎক্ষণিক মানসিক চাপ কমানোর একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়। শিস দেওয়ার সময় মস্তিষ্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যা কিছু সময়ের জন্য আপনার মনকে চারপাশের নেতিবাচকতা থেকে দূরে রেখে শান্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

যাঁরা প্রায়ই প্যানিক অ্যাটাক বা তীব্র উদ্বেগে ভোগেন, তাঁদের চিকিৎসকেরা নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (ব্রিদিং এক্সারসাইজ) করার পরামর্শ দেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, জটিল কোনো ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে আপনি চাইলে শুধু শিসও দিতে পারেন। কারণ শিস দেওয়ার সময় মানুষকে ফুসফুসের গভীর থেকে বাতাস টেনে তা ঠোঁটের মাধ্যমে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে বের করতে হয়। এটি কেবল আপনার অনিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসকে ছন্দবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে না, বরং উদ্বেগের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক ও শারীরিক অস্বস্তিকর লক্ষণগুলো থেকে আপনার মনোযোগ দ্রুত সরিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।


যখনই একা থাকা অবস্থায় আপনার মন খারাপ লাগবে কিংবা একাকীত্ব গ্রাস করবে, তখনই পছন্দের কোনো গানের সুর ধরে শিস দেওয়া শুরু করুন। অসংখ্য মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিস দেওয়ার মতো একটি অতি সাধারণ শারীরিক কাজ মানুষের মন ভালো করার হরমোন নিঃসরণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। আপনি যখন বিকেলে বা সকালে পার্কে হাঁটছেন, ঘরে বসে কোনো কিছু তৈরি করছেন, কিংবা ডায়েরির পাতার ওপর আলতো করে আঁকিবুঁকি করছেনতখন শিস দেওয়াকে যুক্ত করতে পারেন। এটি আপনার সামগ্রিক মেজাজকে প্রফুল্ল ও আনন্দময় রাখতে দারুণ সহায়ক হবে।


চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে শিস দিলে মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া অনেক শক্তিশালী হয়। এটি সরাসরি ফুসফুস ও বুকের ভেতরের ডায়াফ্রামকে অনেক বেশি মজবুত ও প্রসারিত করে। এর ফলে, এই অভ্যাসের মাধ্যমে আমাদের শরীরের প্রতিটি জীবিত কোষ এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ অক্সিজেন আরও দক্ষতার সাথে ও দ্রুত সরবরাহ হতে পারে। এছাড়াও, দীর্ঘক্ষণ শিস দিলে শরীর থেকে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।


সুস্থ শরীরের জন্য সবচেয়ে সহজ অথচ অত্যন্ত উপকারী ব্যায়ামগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট করে নিয়ম মেনে হাঁটা। কিন্তু প্রতিদিন একই রাস্তায় বা ট্র্যাকে হাঁটা অনেকের কাছেই বেশ একঘেয়ে এবং বিরক্তিকর লাগতে পারে। যদি এটি আপনার কাছে একঘেয়ে লাগে, তবে প্রতিবার হাঁটার সময় মুখে মৃদু শিস দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। শিস দিলে কয়েক মাইলের দীর্ঘ হাঁটাও অনেক কম একঘেয়ে মনে হয় এবং হাঁটার গতিও বাড়ে।


যেহেতু নিয়মিত শিস দেওয়ার চমৎকার অভ্যাসটির কারণে মানুষের মানসিক ক্লান্তি ও ডিপ্রেশন দ্রুত দূর হয়, সে কারণে এই অভ্যাসের ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি আমাদের ত্বকের ওপর পড়ে। মানসিক চাপমুক্ত থাকার ফলে এবং শিস দেওয়ার সময় মুখের মাংসপেশির এক ধরনের ব্যায়াম হওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবেই চেহারায় বলিরেখা পড়ে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকের তারুণ্যতা বজায় থাকে। তাই সুস্থ থাকতে আর মনকে সতেজ রাখতে আজ থেকেই মুখে সুরের শিস তোলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন