অসহায়দের পাশে ‘আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’, ৯৮ পরিবারে মাংস বিতরণ

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ণ
অসহায়দের পাশে ‘আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’, ৯৮ পরিবারে মাংস বিতরণ
মাংস বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের জীবনে শুধু একটি উৎসব নয়; বরং ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ব এবং আল্লাহর প্রতি নিখাদ সমর্পণের এক অনন্য প্রতীক। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত এই পবিত্র উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলিমরা পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করেন এবং সেই মাংস সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। কোরবানির এই মূল চেতনাকে ধারণ করে পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় রাজধানী ঢাকায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মানবিক সংগঠন ‘আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সংগঠনটি ‘সদকায়ে কুরবানী প্রজেক্ট-২’ কর্মসূচির আওতায় একটি গরু কোরবানি করে প্রায় ৯৮টি দরিদ্র, অসহায় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে পবিত্র ঈদের মাংস বিতরণ করেছে। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ছিল—লজ্জা ও সামাজিক মর্যাদার কারণে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস নিতে পারেন না, ঈদের আনন্দ থেকে যেন সেই পরিবারগুলো কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়।

ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব এমদাদুল ফেরদৌস এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “আমরা এমন পরিবারগুলোকে বেছে নিই যারা লোকলজ্জা ও আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে হাত পাততে বা সাহায্য চাইতে পারেন না। ঈদের দিনে তাদেরও পরিবার নিয়ে মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকে। আমরা মূলত তাদের সেই ছোট্ট কিন্তু আবেগী চাওয়াটা পূরণ করার চেষ্টা করেছি।”

সংগঠনটির সভাপতি এস এইচ সম্রাট হোসেন জানান, তারা সারা বছর ধরে অত্যন্ত নীরবে ও গোপনে এমন পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করেন যাদের বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হয়, কিন্তু তারা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারেন না। সেই গোপন তালিকার ভিত্তিতেই পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রকৃত উপকারভোগী ও মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে এই ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মাত্র কয়েকজন সমাজসচেতন তরুণ-তরুণীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ‘আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এবং বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই সংগঠনটি গত ৩ বছর ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এবারের ‘সদকায়ে কুরবানী প্রজেক্ট-২’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের একঝাঁক প্রাণবন্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। একটি সুস্থ, বৈষম্যহীন ও আনন্দময় সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন