ভারতে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
ভারতে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের গুজরাটে মদ্যপান নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের জন্মদাতা সন্তানকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পাশবিক এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর অপচেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা। অবশেষে নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। ঘটনাটি গত জুন মাসে গুজরাটের রাজকোট জেলার গন্ডল তালুকার গুণ্ডালা গ্রামে ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম রাম বাবুভাই বাম্ভাভা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাম দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। এই অভ্যাস নিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রায়শই তীব্র পারিবারিক বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকত। মাত্র চার মাস আগে রামের বিয়ে হয়েছিল। ঘটনার দিনও মদ্যপান করাকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের সঙ্গে রামের মারাত্মক বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেই কলহ চরম সহিংস রূপ নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে রামের মা তাঁকে জোরপূর্বক অ্যাসিড পান করান। এতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁর বাবা তাঁকে বেদম মারধর করেন এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রামের বাবা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে গন্ডল সিভিল হাসপাতালে কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই দ্রুত একটি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই প্রচার করা হয়েছিল।

তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের নিখুঁত তদন্ত এবং পরবর্তীতে বিশদ ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, রামের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক বা আত্মহননের ঘটনা নয়। তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া (অ্যাসিড) এবং শ্বাসরোধের স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়। এর ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে করা আত্মহত্যার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

ময়নাতদন্তের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশের পর নিহতের স্ত্রী বানশিবেন বাম্ভাভা নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে গন্ডল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে রামের বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন